সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞ। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, এবং আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আমাদের নেতা মুহাম্মদ তাঁর বিশ্বস্ত রাসুল। তাঁর উপর, তাঁর পরিবার এবং সাহাবীদের উপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
অতঃপর: আমি আপনাদেরকে, আল্লাহর বান্দাদেরকে এবং নিজেকে আল্লাহকে ভয় করার উপদেশ দিচ্ছি। আল্লাহ তা’আলা বলেন:
“এবং বলো, হে আমার রব, আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন।”
হে মুমিনগণ, হে জ্ঞানের অধিকারীরা:
সর্বপ্রথম যে আয়াতগুলো নবীদের নেতা এবং শিক্ষকদের নেতার হৃদয়ে অবতীর্ণ হয়েছিল, তা হলো:
“পড়ুন আপনার প্রতিপালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। যিনি মানুষকে একটি জমাট বাঁধা রক্তপিণ্ড থেকে সৃষ্টি করেছেন। পড়ুন এবং আপনার প্রতিপালক মহিমান্বিত। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি মানুষকে তা শিখিয়েছেন, যা সে জানতোনা।”
এই পাঁচটি আয়াত জ্ঞান ও প্রজ্ঞার উপর ভিত্তি করে একটি সমৃদ্ধ যুগের সূচনা ঘোষণা করে—একটি পূর্ণাঙ্গ সভ্যতা গড়ার জন্য, যেখানে সমাজের প্রতিটি সদস্য তার নিজ নিজ স্থানে থেকে মহান দায়িত্ব পালন করবে, যা নবী, আলেম এবং শিক্ষকদের উত্তরাধিকার।
শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের কেন্দ্রগুলোতে আত্মাকে পরিশুদ্ধ করা হয় এবং দক্ষতাগুলোকে শাণিত করা হয়, যাতে আমাদের সমাজ একটি জ্ঞান-ভিত্তিক সমাজে পরিণত হয়। যারা জানে আর যারা জানে না, তারা কি সমান হতে পারে? জ্ঞান হলো স্বচ্ছতা, পবিত্রতা এবং নিরন্তর প্রচেষ্টা। আল্লাহ আমাদের জন্য জ্ঞান ও বিজ্ঞানের একটি সমন্বিত ব্যবস্থা দান করেছেন এবং দ্রুত বিকশিত প্রযুক্তির দ্বার খুলে দিয়েছেন।
আল্লাহর বান্দাগণ:
জ্ঞানের সমাজ একটি সমন্বিত সমাজ, যেখানে শিক্ষক, ছাত্র এবং অভিভাবক সবাই মিলে ভবিষ্যৎ নির্মাণে অংশগ্রহণ করে।
হে প্রিয় ছাত্র, তুমি যখন পড়াশোনায় মনোযোগী, তখন আল্লাহর বাণীটি স্মরণ করো:
“আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে তোমরা যেন আমানতগুলো তার মালিকের কাছে ফিরিয়ে দাও।”
ছাত্রের হাতে অর্পণ করা হয়েছে একটি আমানত—যা তার মনকে বিচ্যুতি থেকে রক্ষা করে, নৈতিকতাকে সংরক্ষণ করে। এটি জাতির ভিত্তি গড়ার আমানত।
শিক্ষককে তাই তার বিষয়ে দক্ষ হতে হবে, আন্তরিকভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে এবং আচরণে ছাত্রদের জন্য আদর্শ হতে হবে। নবী ﷺ বলেছেন:
“যখন তোমাদের একজন কোনো কাজ করে, তখন সে যেন তা নিখুঁতভাবে করে।”
হে পিতা-মাতা:
আপনারা সন্তানের জন্য দোয়া করুন। বলুন, “হে আল্লাহ, আমার সন্তানদেরকে সংশোধন করে দিন।” তাদের পড়াশোনায় সহায়ক হোন এবং তাদের সাফল্যের জন্য দোয়ার দরজা খুলে দিন।
হে মুমিনগণ:
আল্লাহকে মেনে চলুন এবং রাসুলকে ﷺ মেনে চলুন।
ছাত্র হলো শিক্ষার মূল কেন্দ্র, শিক্ষক হলো দিকনির্দেশক। আর বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় হলো স্বপ্ন বাস্তবায়নের মাধ্যম।
হে ছাত্র, মনে রেখো:
“যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জনের জন্য কোনো পথ অবলম্বন করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন। ফেরেশতারা জ্ঞান অন্বেষণকারীর সন্তুষ্টির জন্য তাদের ডানা বিছিয়ে দেন।”
তুমি বৈজ্ঞানিক সততা, সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতার সাথে জ্ঞান অর্জন করো। স্কুলের নিয়ম মেনে চলো, আরবি ভাষা ও জাতীয় পরিচয়ে গর্ববোধ করো, এবং সামাজিক মূল্যবোধকে রক্ষা করো।
হে শিক্ষক ও প্রশাসকগণ:
আপনারা আন্তরিকতা ও সততার সাথে কাজ করুন। এই দেশে আমরা একটি আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা তৈরি করেছি, যার লক্ষ্য এমন একটি প্রজন্ম তৈরি করা, যারা আলেম, চিন্তাবিদ, বিশেষজ্ঞ এবং উদ্ভাবক হবে।
দোয়া
সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ ﷺ, তাঁর পরিবার, সাহাবীগণ ও অনুসারীদের উপর।
হে আল্লাহ, আবু বকর, উমর, উসমান, আলী এবং সকল সাহাবীর উপর সন্তুষ্ট হোন।
হে আল্লাহ, আমাদেরকে উপকারী আলেম বানান, আমাদের প্রচেষ্টা কবুল করুন, আমাদের পিতা-মাতাকে দয়া করুন।
হে আল্লাহ, আমিরাতকে রক্ষা করুন, প্রেসিডেন্ট শেখ মুহাম্মদ বিন জায়েদ এবং শাসকদের হেফাজত করুন।
হে আল্লাহ, প্রতিষ্ঠাতাদের প্রতি দয়া করুন, শহীদদের ক্ষমা করুন, জীবিত ও মৃত মুসলিমদের প্রতি দয়া করুন।
হে আল্লাহ, আমাদের সন্তানদের সৎপথে পরিচালিত করুন, রোগীদের আরোগ্য দিন, আমাদের দীন, দুনিয়া ও আখেরাতকে সুন্দর করুন।
খতিব:
সাইফুল্লাহ মেহরুজ্জামান
খতীব, আবদুল্লাহ আল থানী গভর্নমেন্ট জামে মসজিদ, সাইফ জোন, শারজাহ, UAE
Discussion about this post