দায়িত্বজ্ঞানহীন সামরিক উসকানির মাধ্যমে সিরিয়া ও লেবাননকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টায় ইসরায়েল। আরব লীগের মহাসচিব আহমেদ আবুল ঘেইত শনিবার (৫ এপ্রিল) এ অভিযোগ করেছেন। বলেছেন, যা আন্তর্জাতিক আইনগত নিয়মের স্পষ্ট অবজ্ঞা।
এক বিবৃতিতে আবুল ঘেইত দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বিশ্বব্যাপী নিষ্ক্রিয়তা ইহুদিবাদী রাষ্ট্রকে আরও সাহসী করেছে।
সৌদি প্রেস এজেন্সি কর্তৃক প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অধিকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চল, লেবানন এবং সিরিয়ায় ইসরায়েল কর্তৃক পরিচালিত যুদ্ধ সম্পূর্ণ বেপরোয়ার এক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। ইচ্ছাকৃতভাবে স্বাক্ষরিত চুক্তি ইসরায়েল লঙ্ঘন করছে। তারা দেশগুলোতে আক্রমণ করছে এবং আরও বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করছে।
তিনি বলেন, ইসরায়েলের পুনরায় হত্যার অভিযান গত বছরের শেষের দিকে লেবাননের সঙ্গে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির একটি অগ্রহণযোগ্য এবং নিন্দনীয় লঙ্ঘন।
তিনি বলেন, মনে হচ্ছে ইসরায়েলি যুদ্ধযন্ত্র ততক্ষণ থামতে চাইবে না যতক্ষণ দখলদার নেতারা তাদের অভ্যন্তরীণ সংকটগুলো বিদেশে রপ্তানি করে তা মোকাবিলা করার ওপর জোর দিচ্ছে। এই পরিস্থিতি সবার কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মনে করেন- বিশ্বের মুসলিম দেশগুলো যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে কোনো শত্রু শক্তিই মুসলিম দেশগুলোর ওপর জুলুম বা হামলা চালাতে পারবে না।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) ইয়েমেনের সুপ্রিম পলিটিক্যাল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মাহদি আল মাসহাতের সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপে তিনি এ মন্তব্য করেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
আলোচনায় প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, মুসলিম দেশগুলো যদি সত্যিকারের ঐক্য গড়ে তোলে, তাহলে কোনো সাম্রাজ্যবাদী শক্তিই মুসলিমদের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালাতে পারবে না।
ফোনালাপে মাহদি আল মাসহাতও ইসলামী ঐক্যের পক্ষে ইরানের অবস্থানকে প্রশংসনীয় ও গর্বের বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ইরান সবসময় মুসলিম বিশ্বের ঐক্য রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে।
এই ফোনালাপ এমন এক সময় হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে নিয়মিত বোমা হামলা চালাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের হতাহতের ঘটনা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সংহতি এবং ঐক্যের বার্তা দিয়েছে ইরান ও ইয়েমেন।
Discussion about this post