সমস্ত প্রশংসা মহামান্য আল্লাহর জন্য, যিনি মানবজাতির আত্মার মধ্যে সম্মান ও মর্যাদা স্থাপন করেছেন। তিনি এক ও অদ্বিতীয়।
প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।
হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় করো। প্রত্যেকে ভাবুক, সে আগামী দিনের জন্য কী প্রস্তুত করছে। আল্লাহকে ভয় করো, নিশ্চয়ই তিনি তোমাদের কাজকর্ম সম্পর্কে অবগত।
(সূরা আল-হাশর: আয়াত ১৮)
মানবজাতির কাছে আত্মা অত্যন্ত প্রিয় বস্তু। এটা আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন। অহংকারমুক্ত হৃদয় মানুষকে সম্মানিত করে, আর অন্তরকে কলুষমুক্ত করার ক্ষেত্রে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই এবং হবেও না।
একবার সাহাবি হাকিম ইবনে হিযাম (রাঃ) প্রিয় নবীজীর কাছে এসে কিছু চাইলেন। নবীজী তাঁকে দিলেন। তিনি তিনবার চাইলেন, নবীজী তিনবারই দিলেন। তারপর নবীজী বললেন,
“হাকিম! শোনো, সম্পদ একটি সজীব ও প্রিয় বস্তু। যে ব্যক্তি উত্তম নিয়তে নেয়, তার জন্য তাতে বরকত আসে। কিন্তু যে লোভের বশবর্তী হয়ে নেয়, সেখানে বরকত থাকে না—যেমন কেউ খায় কিন্তু তৃপ্ত হয় না।”
এই কথা শোনার পর হাকিম (রাঃ) বললেন,
“হে আমার প্রিয় নবী! আমি আমার মৃত্যু পর্যন্ত আর কখনও কারও কাছ থেকে কিছুই চাইব না।”
(সহীহ বুখারি ১৪৭২, সহীহ ইবনে হিব্বান ৩৪০২)
এ কারণেই আল্লাহর কাছেই সবকিছু চাওয়ার মধ্যেই বান্দার সম্মান ও মর্যাদা নিহিত।
তিনি মহাশক্তিধর, পরাক্রমশালী।
(সূরা হুদ: আয়াত ৬৬)
নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
“আল্লাহর কসম! যে ব্যক্তি নিজের রশি দ্বারা কাঠ বয়ে এনে বিক্রি করে জীবিকা অর্জন করে, সে সেই ব্যক্তির চেয়ে উত্তম, যে ভিক্ষা চায়—যা হয়তো পায় বা পায় না।”
(সহীহ বুখারি ১৪৭০, সহীহ মুসলিম ১০৪২)
আমীরুল মু’মিনীন আলী ইবনে আবি তালিব (রাঃ) বলেছেন,
“আত্মসম্মান বজায় রেখে অভাব পূরণের চেষ্টা করো। কেননা মানুষের জীবন ভাগ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।”
(আল তানওয়ির শারহ আল জামি’ আস-সাগীর ২/৪৩৬)
আল্লাহ বলেন,
“তিনি এই পৃথিবীকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন। তোমরা এর পথে প্রান্তরে চলাফেরা করো এবং তাঁর রিজিক ভোগ করো। আর তোমাদের পুনরুত্থান তাঁর দিকেই হবে।”
(সূরা আল-মুলক: আয়াত ১৫)
নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
“কোনো মুমিন ব্যক্তির জন্য উচিত নয় নিজেকে লাঞ্ছিত করা।”
সাহাবারা জিজ্ঞাসা করলেন, “কীভাবে নিজেকে লাঞ্ছিত করে?”
নবীজী বললেন,
“যখন কেউ স্বপ্রণোদিত হয়ে এমন কাজে জড়ায় যা তাকে বিপদে ফেলে, বা নিজের সামর্থ্যের বাইরে অন্যকে উপদেশ দেয়।”
যেমন কেউ অন্যায় দেখলে তাকে বারণ করতে গেলে নিজের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে—এমন পরিস্থিতিতে নীরব থাকা উচিত, নিজের মর্যাদা রক্ষা করে সরে যাওয়া উচিত।
এর আরেক অর্থ হলো—মানুষের কাছে হাত না পাতা, ভিক্ষা না চাওয়া, সদকা না দাবি করা।
(সুনানে তিরমিজি ২৪০৪)
নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
“অন্তরের ধনীই প্রকৃত ধনী।”
(সহীহ বুখারি, সহীহ মুসলিম)
অতএব, যতটুকু আছে তাতেই সন্তুষ্ট থাকা মানেই অন্তরের ধনসম্পদ। সে দুঃখ-কষ্টেও প্রশান্ত থাকে, উদ্বেগ তাকে গ্রাস করতে পারে না।
আমাদের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত। আমরা এই দেশটিকে ভালোবাসি। এ দেশের সম্মান মানে আমাদের সম্মান। আমরা এ দেশের জন্য কাজ করে যাবো, এবং এ দেশের পতাকাকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাবো।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাননীয় প্রেসিডেন্ট শেখ মুহাম্মদ বিন জায়েদ আগামী ৩ নভেম্বর পতাকা দিবস উদযাপনের আহ্বান জানিয়েছেন।
“হে আমাদের দেশ! তুমি চিরদিন টিকে থাকো। আমাদের ঐক্য অটুট থাকুক।”
عيشي بلادي . عاش اتحاد إماراتنا
হে আল্লাহ! এই দেশটিকে নিরাপদ রাখুন, উন্নতি ও সমৃদ্ধি দিন, এবং একে উচ্চ মর্যাদায় পৌঁছে দিন। আমিন।
হে আল্লাহ! আমাদের পিতা-মাতাকে ক্ষমা করুন এবং তাঁদের জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন। আমিন।
বি:দ্র: শারজাহ প্রদেশে জনসংখ্যা গণনা শুরু হয়েছে এই মাসের ১০ তারিখ থেকে, যা চলবে বছরের শেষ পর্যন্ত।
খতিব: এম কিউ এম সাইফুল্লাহ মেহরুজ্জামান
শুজা’ বিন ওয়াহাব সরকারি জামে মসজিদ, শারজাহ, সংযুক্ত আরব আমিরাত








