ইহসানের স্বত্বাধিকারী অনুগ্রহশীল মহান আল্লাহর জন্য সমস্ত প্রশংসা । যিনি ভূ মন্ডল নভোমন্ডলের পালনকর্তা । আমাদেরকে সম্মানিত করেছেন মাহে রমজানের শেষ দশকের মাধ্যমে । অধিক কল্যাণ লাভ ও জান্নাত প্রাপ্তির সুযোগ করে দিয়েছেন ।
তিনি মর্যাদার উচ্চতা দানকারী ।
সূরা গাফির ১৫
পরিপূর্ণ রহমত ও কল্যাণ অবতীর্ণ হোক বিশ্বনবী সাঃ’র উপর । যিনি সর্বাত্মক সময় ব্যয় করতেন আল্লাহর ইবাদতে । শান্তি অবতীর্ণ হোক তাঁর পরিবার রাঃ, তাঁর সাহাবীবৃন্দ রাঃ, তাবেঈনগণ রাঃ সহ সমগ্র মুসলিম জাতির উপর ॥
হে ঈমানদারগণ ! তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে যেভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর ফরজ করা হয়েছিলো । যেনো তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো । সুনির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ।
সূরা আল বাক্বারা ১৮৩-১৮৪
প্রিয় ভায়েরা ! আমরা এখন মাহে রমজানের শেষ প্রান্তে । অত্যন্ত মূল্যবান সময় অত্যাসন্ন । অর্থাৎ শেষ দশকের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছেছি । এই দশকে এমন একটি রাত রয়েছে যা’ রাতের জগতে সর্বশ্রেষ্ঠ রাত । অত্যন্ত মোবারক রজনী ।
এ রজনী সম্পর্কে আল্লাহ বলেন “ আমি এ কুরআন অবতীর্ণ করেছি বরকতময় রজনীতে । আমি হলাম সতর্ককারী । সে রাতে সকল গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ।”
সূরা আদ দোখান ৩-৪
*** আল্লাহ বলেন “ আমি এ কুরআন নাজিল করেছি এক মর্যাদাপূর্ণ রাত্রীতে । হে নবী সাঃ ! লাইলাতুল ক্বদর সম্পর্কে কিছু জানেন কি ? এ সম্মানিত মাস হাজার মাস অপেক্ষা অধিক উত্তম । ফিরিশ্তাগণ ও জিব্রাইল আঃ নেমে আসেন তাদের রবের অনুমতি নিয়ে প্রতিটি কাজে । ফজর পর্যন্ত শান্তি প্রশান্তি অব্যাহত থাকে ।
সূরা আল ক্বদর ।
মহানবী সাঃ বলেন “ শবে ক্বদরে কংকর অপেক্ষা অধিক সংখ্যক ফিরিশ্তাগণ পৃথিবীতে নেমে আসে ।”
মুসনাদে আহমদ ১১০১৯
আর তাই এ রাতের প্রতি সম্মান করুন । ইবাদত বন্দেগীতে নিজেকে নিয়োজিত করুন ।
মহানবী সাঃ বলেছেন “ তোমরা শেষ দশকে লাইলাতুল ক্বদর অনুসন্ধান করো ।”
ছহীহুল বোখারি
ছহীহ মুসলিম
প্রিয় নবীজী সাঃ আরো বলেন “ যে ব্যক্তি এ রাত থেকে মাহরুম হলো সে সব ধরণের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো ।”
সুনানে ইবনে মাজাহ ১৬৪৪
আল্লাহর রসুল সাঃ বলেন “ যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা বিশ্বাস ও প্রতিদান লাভের আশায় এ রাতে ইবাদতে মগ্ন থাকবে, তার বিগত জীবনের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে ।”
ছহীহুল বোখারি
মহানবী সাঃ বলেছেন “ ধূলায় ধূসরিত হোক ( অর্থাৎ ক্ষতিগ্রস্ত ) সে ব্যক্তি, যে মাহে রমজান পেয়েও গুনাহ মাফ করিয়ে নিতে পারেনি ।”
সুনানে তিরমিজি ৩৫৪৫
*** মহানবী সাঃ মাহে রমজানের শেষ দশকে ইবাদতে এতো বেশী মগ্ন থাকতেন যা অন্য সময়ে থাকতেন না ।”
ছহীহ মুসলিম ১১৭৫
এ রাতে মহানবী সাঃ ঘুমাতেন না । পরিবারকে ঘুম থেকে উঠিয়ে দিতেন ।
ছহীহুল বোখারি ২০২৪
ছহীহ মুসলিম ১১৭৪
এই মূল্যবান রাত সমূহে জামায়াত সহকারে নামাজ পড়ুন ।
মহানবী সাঃ বলেছেন “ এশা ও ফজরের নামাজ জামায়াত সহকারে আদায়কারী ব্যক্তি সারারাত ধরে নামাজে লিপ্ত থাকা সদৃশ ।”
ছহীহ মুসলিম ৬৫৬
ইমামের সংগে সমস্ত নামাজ ( বিতির সহ ) সম্পন্নকারী ব্যক্তি সারারাত ধরে ইবাদতে নিয়োজিত থাকার ছওয়াব লাভ করবে ।”
বলেছেন বিশ্বনবী সাঃ ।
সুনানে আবু দাউদ ১৩৭৫
আল্লাহ বলেন “ হে রসুল সাঃ ! যদি আমার কোন বান্দা আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, বলুন আমি অত্যন্ত নিকটে আছি । আমাকে আহ্বান করা মাত্রই সাড়া দিই ।”
সূরা আল বাক্বারা ১৮৬
মহানবী সাঃ মা আয়েশা রাঃকে বলেন “ তুমি যদি শবে ক্বদর পেয়ে যাও এ দোয়াটি করবে ‘ হে আল্লাহ ! আপনি বড়ই ক্ষমাশীল এবং ক্ষমা করাকে ভালোবাসেন । আমাকে ক্ষমা করুন ।”
সুনানে তিরমিজি ৩৫১৩
ইয়া আল্লাহ ! আজ থেকে শেষ দশক শুরু হতে যাচ্ছে । আমাদেরকে শবে ক্বদর নসীব করুন । ইবাদত করার উপর শক্তি দান করুন ।
আমাদের মা বাবাদেরকে মাফ করুন এবং তাদেরকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুন । আমিন ।
Discussion about this post