সমস্ত প্রশংসা পরম করুণাময় মহান দয়ালু আল্লাহর জন্য। যিনি আমাদের জন্য সঠিক দ্বীনের অনুমোদন দিয়েছেন। আশা-আকাঙ্ক্ষা, শ্রম, চেষ্টা-প্রচেষ্টা ও শুভ ধারণার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছেন।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মহানবী সাঃ আল্লাহর প্রিয় বান্দা ও রাসূল।
আল্লাহ বলেন—
“আল্লাহকে ভয় করো এবং মু’মিনদের উচিত আল্লাহর উপর ভরসা রাখা।”
সূরা আল মায়েদাহ: ১১
যে কোনো কাজ করা কিংবা আগামী ভবিষ্যৎ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে শুভ লক্ষণ এবং আল্লাহর বাণীর উপর আস্থা রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
تهذيب اللغة ٢٧١/١٥
এ কারণেই আল্লাহ তাঁর প্রিয় হাবিব সাঃ-কে বললেন—
“হে নবী (সাঃ)! হয়তো আপনি জানেন না যে, আল্লাহ কোনো উপায় বের করে দেবেন।”
সূরা আত-তালাক: ১
মহানবী সাঃ বলেছেন—
“শুভ লক্ষণই আমার পছন্দ। আর তা হলো উত্তম বাক্য।”
সহিহুল বুখারি: ৫৭৫৬
আর তাই আল্লাহ সম্পর্কে সর্বদা সু-ধারণা রাখা বাঞ্ছনীয়। তিনি বলেন—
“আমি আমার বান্দার সাথে আমার সম্পর্কে তার ধারণার ভিত্তিতে তার সঙ্গে আচরণ করি।”
সহিহুল বুখারি: ৭৪০৫
সহিহ মুসলিম: ২৬৭৫
আল্লাহর উপর অবিচল আস্থা রাখা অপরিহার্য। তিনি বলেন—
“আল্লাহ তাঁর ওয়াদা ভঙ্গ করেন না।”
সূরা আল ইমরান: ৯
সাইয়্যিদুনা আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাঃ বলেন—
“সেই মহান আল্লাহর কসম, যিনি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোনো ইলাহ নেই, আল্লাহর প্রতি উত্তম ধারণা করা অপেক্ষা বান্দাদের জন্য আর কোনো উত্তম জিনিস আল্লাহ দেননি।”
রেফারেন্স:
شرح صحيح البخاري لابن بطال ٩٩/١٠
আমাদের পূর্ণ বিশ্বাস আল্লাহর উপর হতে হবে।
“আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। তিনি অচিরেই আমাদেরকে স্বীয় অনুগ্রহে দান করবেন।”
সূরা আত-তাওবাহ: ৫৯
মুসলিম জাতির মা উম্মে সালামাহ রাঃ বলেন— আমি প্রিয় রাসূল সাঃ-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন—
“যে কোনো ব্যক্তির উপর বিপদ অবতীর্ণ হলে সে যদি বলে— ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। হে আল্লাহ! আমাকে নেকি দান করুন এবং আমাকে এর চেয়ে উত্তম প্রতিদান দান করুন।’ তাহলে আল্লাহ তাকে সওয়াব দান করেন এবং ঐ বিপদের চেয়ে উত্তম প্রতিদান দান করেন।”
সহিহ মুসলিম: ৯১৮
আল্লাহ কঠিন করার পর অচিরেই সহজ করে দেবেন।
সূরা আত-তালাক: ৭
সাইয়্যিদুনা ইয়াকুব আঃ বলেছিলেন—
“হে আমার আদুরে সন্তানেরা! তোমরা ইউসুফ ও তাঁর ভাইয়ের খবরাখবর নিয়ে আসো এবং আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।”
সূরা ইউসুফ: ৮৭
মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করার সময়ে যখন মহানবী সাঃ আবু বকর রাঃ-কে সঙ্গে নিয়ে সাওর গুহায় আশ্রয় নেন, তখন আবু বকর রাঃ বললেন— হে রাসূলাল্লাহ! কেউ যদি আমাদের পায়ের দিকে তাকায়, দেখে ফেলবে।
জবাবে মহানবী সাঃ বলেছিলেন—
“হে আবু বকর! আপনি আমরা দু’জনকে নিয়ে কী ভাবছেন? আল্লাহ আছেন তৃতীয় জন।”
সহিহুল বুখারি: ৩৬৫৩
সহিহ মুসলিম: ২৩৮১
সুনানে তিরমিজি: ৩০৯৬
মুসনাদে আহমদ: ১১
অর্থাৎ আল্লাহর প্রতি রাসূল সাঃ-এর উত্তম ধারণা ছিল— যা আমাদের সকলের জন্য শিক্ষা।
(মিথ্যা অপবাদের ঘটনাটি) এটা তোমাদের জন্য মন্দ মনে করো না; বরং এটা ছিল তোমাদের জন্য কল্যাণকর।
সূরা আন-নূর: ১১
মহানবী সাঃ বলেছেন—
“মানুষদেরকে সুসংবাদ দাও এবং বিরক্ত করো না।”
সহিহুল বুখারি: ৬৯
সহিহ মুসলিম: ১৭৩৪
মহানবী সাঃ শুভ লক্ষণকেই পছন্দ করতেন।
সহিহুল বুখারি: ৫৭৫৬
অশুভ লক্ষণের উপর বিশ্বাস করবে না। সর্বদা আল্লাহর উপর আস্থা, বিশ্বাস ও ভরসা রেখে শুভ লক্ষণ পছন্দ করে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। এটাই দৃঢ়তা ও শরঈ ধারণা।
ইয়া আল্লাহ! শুভ লক্ষণের প্রতি আমাদেরকে আকৃষ্ট করুন। আমাদের ভালো কাজগুলো কবুল করুন এবং মন্দ কাজগুলো ক্ষমা করুন।
আমাদের মা-বাবাদেরকে ক্ষমা করে দিন। তাঁদেরকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুন। আমিন।
এমকিউএম সাইফুল্লাহ মেহরুজ্জামান
খতিব
শুজা বিন ওহাব সরকারি জামে মসজিদ
শারজাহ, সংযুক্ত আরব আমিরাত









