সমস্ত প্রশংসা মহান ইহসানকারী আল্লাহর জন্য। তিনি আমাদের নবী সাঃ-কে ভাষার সাহিত্য সম্ভার দান করেছেন।
আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মহানবী সাঃ আল্লাহর সবচে’ প্রিয় বান্দা ও রাসূল।
হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় করো। প্রত্যেকের উচিত পরকালের জন্য কী নিয়ে যাচ্ছে ভেবে দেখা। আল্লাহকে ভয় করো। তিনি তোমাদের যাবতীয় কার্যাবলী পর্যবেক্ষণ করছেন।
সূরা আল-হাশর: ১৮
নতুন বর্ষ শুরু হয়েছে। আল্লাহ আমাদেরকে এ নতুন বর্ষে আমাদের পরিবার ও দেশে খাইর ও বরকত দান করুন। সবকিছু সহজ করে দিন। আমরা যেন প্রিয় রাসূল সাঃ-এর আদর্শ অনুসরণ করতে পারি এবং তাঁর শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি। কেননা তাঁর ব্যাপারে স্বয়ং আল্লাহ বলেছেন—
তিনি (রাসূল সাঃ) প্রবৃত্তির অনুসরণ করে কোনো কথা বলেন না।
সূরা আন-নাজম: ৩
প্রিয় রাসূল সাঃ-এর বাণীগুলো হিদায়াত, নূর এবং বিশাল শিক্ষা—সকল জাতির জন্য। যেহেতু তিনি ওহীর বাণী প্রচার করেছেন।
সে কথার দলীল স্বয়ং পবিত্র কুরআন থেকেই স্পষ্ট—
আর আল্লাহ আপনার প্রতি কিতাব ও প্রজ্ঞা নাজিল করেছেন।
সূরা আন-নিসা: ১১৩
রাসূল সাঃ তাঁর প্রতি নাজিল হওয়া ওহীর নিখুঁত সত্য তুলে ধরতে গিয়ে বলেন—
যে ব্যক্তি আমার নামে আমার পক্ষ থেকে মিথ্যা কথা বলে, সে মিথ্যাবাদীদের অন্যতম।
সুনানে তিরমিজি: ২৬৬২
মহানবী সাঃ-কে আল্লাহ কথা বলার যে সাহিত্যিক প্রজ্ঞা দান করেছেন, তার কোনো তুলনা নেই।
তিনি বলেন—
আমাকে জাওয়ামেউল কালিম দান করা হয়েছে। অর্থাৎ কম বাক্যে অধিক অর্থ।
সহিহুল বুখারি: ২৯৭৭
মহানবী সাঃ বলেন—
সে প্রকৃত বীর নয়, যে কুস্তিতে অন্যকে হারিয়ে দেয়; বরং প্রকৃত বীর সেই, যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
সহিহুল বুখারি: ৬১১৪
এক ব্যক্তি বললেন— হে আল্লাহর রাসূল! আমি আত্মীয়দের সাথে সম্পর্ক রাখার চেষ্টা করি, কিন্তু তারা সম্পর্ক রাখতে চায় না। আমি তাদের সাথে ইহসান করি, কিন্তু তারা আমার সাথে মন্দ আচরণ করে। আমি তাদের সহ্য করি, কিন্তু তারা আমার সাথে জাহালাত করে।
জবাবে রাসূল সাঃ বললেন—
তুমি যা বলেছ, তা যদি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে তুমি যেন তাদেরকে গরম বালু খাওয়াচ্ছ। তুমি যদি তাদের সাথে এমন আচরণ অব্যাহত রাখো, আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাকে সাহায্য করার জন্য একজন ফেরেশতা নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।
সহিহ মুসলিম: ২৫৫৮
মহানবী সাঃ বলেছেন—
যে ব্যক্তি রাগ নিয়ন্ত্রণ করে, অথচ সে প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষমতা রাখে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে সমস্ত সৃষ্টির সামনে সম্মানিত করবেন। তাকে বলা হবে— জান্নাতের যে হুর তুমি চাও, গ্রহণ করো।
সুনানে আবু দাউদ: ৪৭৭৭
মহানবী সাঃ বলেছেন—
মুমিন ব্যক্তি লা’নতকারী, গীবতকারী, অশ্লীলভাষী ও নির্লজ্জ হতে পারে না।
সুনানে তিরমিজি: ১৯৭৭
মহানবী সাঃ বলেছেন—
তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি ও তার পরিবার সকাল করে নিরাপদে, শারীরিকভাবে সুস্থ থাকে এবং একদিনের খাবার মজুদ থাকে, তার জন্য যেন পুরো দুনিয়াই দান করা হয়েছে।
সুনানে তিরমিজি: ২৩৪৬
মহানবী সাঃ বলেছেন—
তোমরা তোমাদের রব আল্লাহকে ভয় করো, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করো, পুরো রমজান রোজা রাখো, তোমাদের সম্পদের যাকাত আদায় করো এবং শাসকের আনুগত্য করো। এভাবেই তোমরা তোমাদের রবের জান্নাতে প্রবেশ করবে।
সুনানে তিরমিজি: ৬১৬
মহানবী সাঃ-কে আল্লাহ হিকমাহ বা প্রজ্ঞা দান করেছেন। এটাকে নববী হিকমাহ বা প্রজ্ঞা বলা হয়। তাঁর এই হিকমাহপূর্ণ জীবন আমাদের সকলের জন্য আদর্শ। আমাদেরকে তাঁর আদর্শ অনুসরণ করতে হবে।
ইয়া আল্লাহ! প্রিয় রাসূল সাঃ-এর হিকমাহ অনুসরণ করে জীবন যাপন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
আমাদের মা-বাবাদের ক্ষমা করুন। তাদেরকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন। আমিন।
এমকিউএম সাইফুল্লাহ মেহরুজ্জামান
খতিব
শুজা বিন ওহাব সরকারি জামে মসজিদ
শারজাহ, সংযুক্ত আরব আমিরাত










