সমস্ত প্রশংসা পরম করুণাময় মহা দয়ালু আল্লাহর জন্য । যিনি তাঁর রহমত দ্বারা পরিবেষ্টন করেছেন তাঁর সমগ্র সৃষ্টিজগত ।
আল্লাহর দয়া ও রহমত নাজিল হোক মহানবী মুহাম্মদ সাঃ ‘র উপর । তাঁর পরিবার, সাহাবীগণ, তাবেঈনদের رضى الله عنهم উপর । গোটা মুসলিম জাতির উপর ।
আল্লাহ বলেন “এই বরকতময় কুরআন আমি অবতীর্ণ করেছি । এর অনুসরণ করো এবং ভয় করো । তবেই তোমাদের উপর রহম করা যেতে পারে ।”
সূরা আল আনআম ১৫৫
প্রিয় ঈমানদার ভায়েরা !
আল্লাহর বিশাল একটি সিফাত বা গুণবাচক নাম হলো “রহমান।” যে শব্দটি শোনা মাত্রই শান্তিতে হৃদয় ভরে যায় । শব্দটির অর্থ দারুণভাবে রেখাপাত করে । আল্লাহর মাহাত্ম্য ফুটে উঠে এই নামটিতে ।
“তোমাদের ইলাহ হলেন একজন ইলাহ । প্রকৃতপক্ষে তিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই । তিনি পরম করুণাময় অসীম দয়ালু।”
সূরা আল বাক্বারা ১৬৩
পবিত্র কুরআনের শুরুতেই সূরা ফাতিহার মাধ্যমে “রহমান“ শব্দের দুই বার ব্যবহার করেন আল্লাহ । বলেন ….
পরম করুণাময় রহমান আল্লাহর নামে শুরু করছি । সমস্ত প্রশংসা ভূমণ্ডল নভোমন্ডলের পালনকর্তা আল্লাহর জন্য । যিনি হলেন পরম করুণাময় রহমান ।
সূরা আল ফাতিহা ১-৩
“(এই কুরআন) পরম করুণাময় রহমানের পক্ষ থেকে নাজিলকৃত।”
সূরা ফুস্সিলাত ২
তিনি তাঁর রসুলকেও সাঃ রহমত শব্দে আখ্যায়িত করেন এবং বলেন …
“(হে রসুল সাঃ)! আমি আপনাকে গোটা বিশ্বের জন্য রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছি।”
সূরা আল আম্বীয়া ১০৭
“হে নবী (সাঃ)! আপনি কি লক্ষ্য করেননি যে, এ ভূখণ্ডে যা কিছু রয়েছে, আল্লাহ তা’ তোমাদের জন্য অনুগত করে দিয়েছেন । সমুদ্রে নৌযান সমূহ চলে তাঁরই নির্দেশে । তিনি আকাশকে ধরে রেখেছেন জমিনে পড়ে যাওয়া থেকে । তাঁর অনুমতি ছাড়া পড়বেনা । নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের প্রতি পরম করুণাময় রহমান ।”
সূরা আল হজ্ব ৬৫
“আমার রহমত সকল বস্তুকে পরিবেষ্টন করে আছে।” বলেছেন মহান আল্লাহ ।
সূরা আল হজ্ব ১৫৬
সাইয়্যিদুনা মুসা আঃ দোয়া করেছিলেনঃ
“হে রব! আমকে ও আমার ভাইকে ক্ষমা করে দিন এবং আপনার রহমতে আমাদেরকে প্রবেশ করান । আপনি হলেন সর্বোত্তম রহমান।”
সূরা আল আ’রাফ ১৫১
সাইয়্যিদুনা সোলাইমান আঃ দোয়া করেছিলেনঃ
“ইয়া রব! আমাকে আপনার রহমতে আপনার উত্তম বান্দাদের মধ্যে দাখিল করুন।”
সূরা আন নামাল ১৯
“হে আল্লাহ! আমার উপর এমন রহমত করুন, আপনি ছাড়া অন্য কারো দয়া থেকে যেনো আমাকে অমুখাপেক্ষি করে রাখে।”
সাইয়্যিদুনা মু’আজ বিন জাবাল রাঃকে মহানবী সাঃ এই দোয়া শিখিয়ে ছিলেন।
তাবরানী ৫৫৮
“হে আমাদের রব! আপনি আপনার জ্ঞান রহমত দ্বারা সবকিছুই পরিবেষ্টন করে আছেন।”
সূরা গাফির ৭
“নিশ্চয়ই আমার রহমত আমার রাগের উপর অগ্রগামী।” বলেছেন মহান আল্লাহ।
ছহীহুল বোখারি ৭০১৫
“হে আমার বান্দারা! যারা নিজেদের উপর জুলুম করেছো, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়োনা । নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেবেন । তিনি ক্ষমাশীল রহমান।”
সূরা আয যুমার ৫৩
“তোমাদের রব বললেন—আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেবো।”
সূরা গাফির ৬০
যেহেতু তিনি (আল্লাহ) হলেন সর্বোত্তম রহমান।
সূরা ইউছুফ ৯২
“(হে রসুল সাঃ)! আপনার রবের রহমত ছাড়া সম্ভব নয়। নিশ্চয়ই আপনার উপর তার অনুগ্রহ বিশাল।”
সূরা আল ইসরা ৮৭
“অচিরেই আল্লাহ কঠিনের পর সহজ করে দেবেন।”
সূরা আত ত্বলাক্ব ৭
“নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক করুণাময় মেহেরবান।”
সূরা আল নাহাল ৭
মহানবী সাঃ বলেছেনঃ
“মু’মিনদের উপর বিপদাপদ দ্বারা তার জন্য কল্যাণ লেখা হয় এবং গুনাহ মাফ করা হয়—even কাঁটা বিধলেও।”
ছহীহুল বোখারি ৫৬৪০
ছহীহ মুসলিম ২৫৭৩
“এটা আপনার রবের তরফ থেকে রহমত। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা সর্বজ্ঞানী।”
সূরা আদ দোখান ৬
মহানবী সাঃ বলেছেনঃ
“আল্লাহ তাঁর রহমতকে ১০০ ভাগে বিভক্ত করেছেন । তার ৯৯ ভাগ নিজের কাছে সংরক্ষিত রেখেছেন । পৃথিবীতে নাজিল করেছেন ১ অংশ । সৃষ্টিজগতে একে অপরের প্রতি দয়া করাটা ঐ এক ভাগের মধ্য থেকেই।”
বুখারি ৬০০০, মুসলিম ২৭৫২
“রহমান (আল্লাহ) রহমকারী বান্দাদের উপর রহম করে থাকেন । জমিনে বসবাসকারীদের উপর রহম করো । তাহলেই আসমানে যিনি আছেন (আল্লাহ) তিনি তোমাদের উপর রহম করবেন।”
আবু দাউদ ৪৯৪১
“মা–বাবার প্রতি বিনয়ী রহমকারী হও।”
সূরা আল ইসরা ২৪
“তিনি (আল্লাহ) তোমরা স্বামী–স্ত্রীর মাঝে মহব্বত ও রহমত ঢেলে দিয়েছেন।”
সূরা আর রোম ২১
ভালোবাসার অভাবে স্ত্রীকে তালাক দিতে চাইলে সাইয়্যিদুনা ওমর রাঃ বললেনঃ
“সমস্ত ঘর ভালোবাসার উপর প্রতিষ্ঠিত হয়না।”
التاريخ الكبير ٤/١٥٢
অর্থাৎ রহম করো—ভালোবাসা না থাকলেও রহম করা উচিত।
সাইয়্যিদুনা আনাস রাঃ বলেনঃ
“পরিবারের প্রতি মহানবী সাঃ’র চেয়ে রহমকারী কাউকে দেখিনি।”
ছহীহ মুসলিম ২৩১৬
“নিশ্চয়ই আল্লাহর রহমত ঈমানদারদের অতি নিকটবর্তী।”
সূরা আল আ’রাফ ৫৬
“তোমরা নামাজ কায়েম করো, যাকাত প্রদান করো, রসুলের সাঃ অনুসরণ করো—তাহলেই রহমত লাভ করবে।”
সূরা আন নূর ৫৬
“যখন কুরআন তেলাওয়াত করা হয়, মনযোগ সহকারে শোন এবং চুপ থাকো—তাহলেই রহমত লাভ করবে।”
সূরা আল আ’রাফ ২০৪
“আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো—নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল দয়াময়।”
সূরা আল বাক্বারা ১৯৯
ইয়া আল্লাহ! আমরা সবাই আপনার রহমতের ভিখারী । ইহ ও পরকালে আমাদের প্রতি রহম করুন । আমাদেরকে আমৃত্যু দ্বীনের উপর রাখুন । মৃত্যুর সময়ে কালিমা তাইয়্যিবাহ নসীব করুন । আমিন ।
আমাদের মা–বাবাদেরকে ক্ষমা করুন এবং তাদেরকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুন । আমিন ।










