৩২ বছর বয়সী বাংলাদেশি কাঠমিস্ত্রি মোহাম্মদ সজল মেন্টু ২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ৫৪তম ঈদ আল ইত্তিহাদ উদযাপনে গ্র্যান্ড প্রাইজ হিসেবে একটি নতুন গাড়ি জিতে নেন।
মানবসম্পদ ও এমিরাটাইজেশন মন্ত্রণালয় (MoHRE) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি আমিরাতজুড়ে ৩০টিরও বেশি স্থানে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ২,৫০,০০০-এর বেশি শ্রমিক অংশ নেন। খেলাধুলা, প্রতিযোগিতা, ট্যালেন্ট শো, র্যাফল ড্র এবং উপহার বিতরণে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।
ফোনে খালিজ টাইমসকে মেন্টু জানান, তিনি মোটেই আশা করেননি যে তিনি জিতবেন।
তিনি বলেন, “আমি আল কুসে বন্ধুদের সঙ্গে গেমস আর শো দেখে এতই মজা করছিলাম যে জেতার কথা ভাবিইনি। কিন্তু যখন চূড়ান্ত ড্রতে আমার নাম ঘোষণা হলো—আমি আনন্দে লাফিয়ে উঠলাম।”
ঘোষণা শোনার পর তিনি দেখেন, সামনে থাকা গাড়িটি তারই।
জেবেল আলিতে কর্মরত মেন্টুর ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই—তবে তাতে সমস্যা নেই, কারণ তিনি গাড়িটি ব্যবহার না করে বিক্রি করতে চান।
তিনি বলেন, “এটি একদম নতুন সেডান। হয়তো ৪৫,০০০ থেকে ৫০,০০০ দিরহাম পর্যন্ত পেতে পারি। এই টাকা দিয়ে আমি ছোট একটি গ্রোসারি দোকান খুলতে চাই।”
তিনি বলেন, তিনি বিলাসী কিছু কিনবেন না। শুধু স্ত্রীকে ৫০০ দিরহামের নিচে একটি সোনার আংটি এবং দুই ছেলেকে কিছু খেলনা দেবেন।
মেন্টু বলেন, “আমি এই টাকা বুদ্ধিমানের মতো ব্যবহার করব—একটি ছোট ব্যবসায় বিনিয়োগ করব, যা পরে আমার পরিবারের স্থায়ী আয় হতে পারে।” তিনি যশোর জেলার বাসিন্দা।
মেন্টু পাঁচ বছর আগে দুবাইয়ে আসেন, যখন তার বড় ছেলে মাত্র কয়েক মাসের।
তিনি বলেন, “আমার দ্বিতীয় বাড়ি হলো ইউএই। এখানে কাজ করার কারণে আমি দেশে পরিবারকে ভালোভাবে দেখভাল করতে পারি।”
আগামী বছর শুরুর দিকে তিনি দেশে যাবেন এবং স্ত্রী-সন্তানদের জন্য “সহজ-সরল উপহার” আর কিছু দুবাই চকলেট নিয়ে যাবেন।
শ্রমিকদের জন্য উৎসব আয়োজন
‘আমাদের ইউনিয়নের উদযাপনে আমাদের শ্রমিকদের সুখ’ স্লোগানে শ্রমিকদের জন্য এই উৎসব আয়োজন করে MoHRE, যার সঙ্গে অংশ নেয়—
• স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
• ফেডারেল অথরিটি ফর আইডেন্টিটি, সিটিজেনশিপ, কাস্টমস অ্যান্ড পোর্ট সিকিউরিটি (ICP)
• আবুধাবি, দুবাই ও শারজাহ পুলিশ
• বিভিন্ন মিউনিসিপ্যালিটি
• এডি পোর্টস গ্রুপ
• জেনারেল ডিরেক্টরেট ফর আইডেন্টিটি অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাফেয়ার্স – দুবাই
এছাড়া আরো অংশ নেয় —
আবুধাবি সিভিল ডিফেন্স, দুবাই সিভিল ডিফেন্স, দুবাই রোডস অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (RTA), শারজাহ লেবার স্ট্যান্ডার্ডস ডেভেলপমেন্ট অথরিটি, ন্যাশনাল অ্যাম্বুলেন্স, দুবাই অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস, রাস আল খাইমাহ ইকোনমিক জোন (RAKEZ), বেইত আল খায়ের, শারজাহ চ্যারিটি, আল ইহসান চ্যারিটি এবং ইয়েদ আল বের সোসাইটি।
অনুষ্ঠানে বেশ কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও যুক্ত ছিল।










